BREAKING NEWS - W.P.L.O.C.K.E.R...C.O.M
Search

জামায়াত ভোটের মাঠে না লড়ে আদালতেই বেশি লড়ে : আসলাম চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিনিধি :: বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম—৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোঃ আসলাম চৌধুরী বলেন, আমার মনোনয়ন বৈধতা পাওয়া না পাওয়া নিয়েও নানা প্রশ্ন এবং সেটা চলমান এবং চলছে। রিটার্নিং অফিসার বৈধ করেছে, নির্বাচন কমিশন বৈধ করেছে। এখনো আমাদের বিরোধী পার্টি জামায়াত আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টে লড়ছে। লড়তেই পারে, ভোটের মাঠে না লড়ে তারা আদালতে লড়াটাই বেশি পছন্দ করছে।

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফৌজদারহাটস্থ আসলাম চৌধুরীর বাসভবনে সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, আপনারা জানেন—

আমি আট বছর তিন মাস পাঁচ দিন এক নাগাড়ে জেল থেকে বের হওয়ার পর, চট্টগ্রামের জনগণ, সীতাকুণ্ড এলাকার জনগণসহ আমাকে যেভাবে অভিবাদন জানিয়েছে, আমি আপনাদের মাধ্যমে তাদেরকে কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জানাই। 

এবং আমাদের নির্বাচনের অভিষেক সেখান থেকেই শুরু। এরপর নানা জল্পনা—কল্পনার মাধ্যমে কখনো আমি মনোনয়ন পাবো না এই কথা জনগণ কখনো বিশ্বাস করে নাই। তবুও আমাদের দল তেসরা (৩রা) নভেম্বর আমাদের ছোট ভাই কাজী সালাউদ্দিনকে নমিনেশন ডিক্লিয়ার করেছে। 

পরবর্তী পর্যায়ে সীতাকুণ্ড, আকবর শাহ এবং পাহাড়তলী এলাকার জনগণের আকাঙ্খার প্রতি এবং সবকিছু বিচার বিশ্লেষণ করে আমাকে আবার দল মনোনয়ন দিয়েছে। 

আপনারা দেখছেন হয়তো ৩ বা ৪ তারিখের পরও আমি কখনো হতাশ হইনি, আমি হতাশ কোন ব্যক্তি না। আমি জানতাম মনোনয়ন আমি পাব এবং সে হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে আমি এখন লড়ছি, ধানের শীষ প্রতীক। 

কারণ হলো কি? দীর্ঘ আট বছর পাঁচ মাস তিন দিন যদি কোন ব্যক্তির কোন ব্যক্তিকে জেলে রাখা হয়, তাহলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে চলে; কোন নিয়মে চলার কথা?

আর ব্যাংকে সুদ আট বছর আগে যদি আমার ঋণ পাঁচ লাখ টাকা হয়ে থাকে সেটা আট বছর তিন মাস পর কত টাকা হবে এগুলো আমাদের সাধারণ মানুষগুলো অংক করে বুঝতে পারে না। 

কারণ এমনি মানুষ বুঝতে পারে, পাঁচ লাখ টাকা ব্যাংকে রাখলে পাঁচ বছর পরে ১০ লাখ টাকা ডিপোজিট হয়ে জমা টাকা হয়। কিন্তু ঋণের টাকা যারা মানে আমরা যারা ঋণ গ্রহণ করে আমাদের টাকা দিয়ে এই যারা টাকা জমা রাখে তাদেরকে সুদটা দেওয়া হয়, সেজন্য আমাদের থেকে বেশি করে নেয়। 

অর্থাৎ আমার যদি পাঁচ কোটি টাকা ঋণ থাকে সেটা আট বছর তিন মাসে সেটা হবে ১৫ কোটি টাকা। এ প্রক্রিয়াগুলোতে ব্যাংকের হিসাব চলে। এগুলো সাধারণ মানুষ বুঝার কথা না। সাধারণ মানুষকে এসব ব্যাখ্যা দিয়ে লাভ নেই। তাই রিটার্নিং অফিসার আমার বৈধতা দিয়েছে নির্বাচন করার জন্য। নির্বাচন কমিশনও বৈধতা দিয়েছে, তাহলে এটা নিয়ে আর কারো প্রশ্ন থাকার কথা ছিল না। 

কিন্তু আমি তো সংগ্রামী মানুষ, সব সময় সংগ্রাম করে যাই। এখনো বলছি—ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন আসলাম চৌধুরী যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে বা প্রতিযোগী হিসেবে এই নির্বাচনে না টিকে তাহলে এই নির্বাচন হবে না। এই নির্বাচন হবে না আসলাম চৌধুরী যদি টিকে থাকতে না পারে। এটাই আপনাদের জন্য আজকের সবচেয়ে বড় মেসেজ।

তিনি বলেন, আমরা নিয়ম অনুসারে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করি, করে যাচ্ছি, এখনো করবো এবং ব্যাংক আমাদেরকে বিনিয়োগ করে আমানতকারীদের কে সুদ দিবে, আমানতকারীদেরকে লাভ দিবে। 

যারা মনে করেন চাকরিজীবি তারা ব্যাংকে কিছু টাকা জমা করে ফিক্স ডিপোজিট করে এখান থেকে লাভটা পাই। এই লাভটা কার থেকে পাবে? এই আসলাম চৌধুরীর মতো ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে বলেই, ব্যাংক থেকে ঋণ নেয় বলে, তাহলে ওই আমানতকারীকে সুদটা দিতে পারে। এবং এটার মাধ্যমে সাধারণ মানুষগুলো নরমাল স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। 

সুতরাং আপনারা চিন্তা করবেন না। সব সময় আমি জনগণের পাশে আছি, সব সময় জনগণের পাশে থাকব এবং নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী আপনাদের দোয়ায় বিজয় হবে—ইনশাআল্লাহ। 

সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম ফোরকান আবুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাইয়ুম চৌধুরীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডক্টর কমল কদর, সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এম. হেদায়েত, সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লাহ আব্দুল্লাহ আল ফারুক, সিনিয়র সদস্য মো. দিদার হোসেন টুটুল সহ প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড প্রেস ক্লাবের অন্যান্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও সদস্যগণ। 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *